এসআই আকবর কোথায়?

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁ’ড়ি’তে নি’র্যা’তনে রায়হান উদ্দিনের মৃত্যুর ৭ দিনে পেরিয়ে যেতে চলেছে, অথচ এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রে’ফ’তার করতে পরেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রায়হান হ’ত্যা’র ঘটনার অ’গ্রভাগে থাকা বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (বরখাস্ত) এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়ারও হদিস পাচ্ছে না পুলিশ।

ঘটনার পর থেকে বরখাস্ত ও প্র’ত্যা’হার হওয়া দুই এএসআই ও চার কনস্টেবল পুলিশের পাহারায় সিলেট পুলিশ লাইন্সে রয়েছেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য ইতোমধ্যে কাষ্টঘর এলাকার সু’ইপা’র কলোনির সুলাই লালসহ দুই জনকে জিজ্ঞাবাদ করেছে। আর মূল হোতা এসআই আকবরসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রে’ফ’তা’রের দাবিতে উত্তাল রয়েছে সিলেট।

সবকিছু ছাপিয়ে সবার মনে একটাই প্রশ্ন আকবর হোসেন ভূঁইয়া কোথায়? সিলেট মহানগর পুলিশের লা’পা’ত্তা এই অফিসারের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না কোথাও। এ বিষয়ে অবশ্য বিভিন্ন জন বিভিন্ন কথা বলছেন। কেউ বলছেন, তিনি পুলিশের হাতের মুঠোয়ই আছেন। আবার পুলিশের কর্মকর্তারাও বলছেন, তিনি নাগালের বাইরে।

সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই আকবর প’লা’তক রয়েছে। পুলিশ সব বিষয়ে সর্তক রয়েছে। মা’ম’লা’টি তদন্ত করছে পিবিআই। তারা চাইলে আকবর ছাড়া অন্যদের তাদের কাছে দেওয়া হবে।’

পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার মো. খালেদুজ্জামান জানান, তদন্তকালে যাদের না পাওয়া যাবে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মা’ম’লা’টি স্পর্শ’কা’তর, তাই সব বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ প্রয়োজন। সে জন্য পিবিআই’র এর তদন্ত দল নানা বিষয় মাথায় রেখে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

রায়হান হ’ত্যা’র ঘটনার পর থেকে পুলিশ লাইন্সে অভি’যু’ক্ত ৬ পুলিশের পাহারায় রয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহের। তিনি বলেন, ‘হ’ত্যা মা’ম’লা’টির পুরো বিষয় তদন্ত করছে পিবিআই। আর তাদের সহযোগিতা করছে পুলিশ। বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁ’ড়ি’র বরখাস্ত হওয়া ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া প’লা’ত’ক রয়েছেন। পুলিশ তাকে খুঁচ্ছে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য কয়েকটি জায়গায় অভি’যা’ন চালিয়েছে পুলিশ। এছাড়া সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে এসআই আকবর যেন দেশ ছাড়তে না পারে, সেজন্য পুলিশের নজরদারি রয়েছে।’

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘পুলিশের হেফাজতে থেকে পুলিশ সদস্যের পা’লি’য়ে যাওয়ার ঘটনা নাটকের একটি অংশ। এখন দেখুন, নিরাপত্তা কোথায় রয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পক্ষপাতিত্ব আচরণ করেছেন পুলিশেরই সঙ্গেই। বরখাস্ত ও প্র’ত্যা’হার হওয়া পুলিশ সদস্যদের পুলিশ লাইন্সে নিরাপত্তা দিয়ে রাখা হলেও এসআই আকবরকে তারাই পা’লা’তে সুযোগ করে দিয়েছেন। এটা পুলিশের ব্যর্থতা ও উদাসীনতার অংশ।’

নি’হ’ত রায়হানের মা সালমা বেগম ক্ষো’ভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পুলিশের আচ’র’ণ আমাদের হ’তা’শ করেছে। আমার ছেলের হ’ত্যা’কা’রী এসআই আকবরকে তারাই পা’লাতে বলেছে। এক সাপ্তাহ হয়ে গেলেও আকবরসহ খুনি পুলিশ সদস্যদের কাউকে গ্রে’ফ’তার করেনি পুলিশ। আমি কিছুই চাই না, আমার ছেলের হ’ত্যা’র বিচার চাই। সেইসঙ্গে য’ম’দূত এসআই আকবরকে ধরার জন্য পুলিশের কাছে অনুরোধ জানাই।’

পুলিশ সূত্র জানায়, সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা ৩টা ১০ মিনিট পর্যন্ত আকবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁ’ড়ি’তেই অবস্থান করছিলেন। তখন পর্যন্ত তাকে বেশ চিন্তিত দেখা গেছে। এরপরই লো’কচ’ক্ষুর আ’ড়ালে চলে যান তিনি। আকবর তার নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন সেট এবং সরকারি সেট দুটোই ফাঁ’ড়ি’তে রেখে গা’য়েব হয়ে যান। গা ঢাকা দিয়ে কোথায় আছেন, সেই হদিস কেউ দিতে পারছেন না। তার আগে সে খু’নে’র সব আলামত ন’ষ্ট করে দেয়। তবে ফাঁ’ড়ি’র ইন’চা’র্জ গা ঢাকা দিলেও অভি’যু’ক্ত অন্য সদস্যদের পুলিশ লাইন্সে রাখা হয়েছে। এএসআই আশেক এলাহি, কুতুব উদ্দিন, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাশ, হারুনুর রশিদ, তৌহিদ মিয়া ও সজিব এখন পুলিশ লাইন্সে বিশেষ নজরদারিতে আছেন। তবে রায়হান হ’ত্যা’র ঘটনায় কাউকেই গ্রে’ফ’তার করা হয়নি।

এদিকে, রায়হান হ’ত্যা’য় জড়িত পুলিশ সদস্যরা আইনের আওতায় না আসায় ক্ষো’ভ কমছে না সিলেটে। কেউ জানে না এই মা’ম’লা’র আ’সা’মি কারা। রায়হান পা’লি’য়ে যাওয়ার ঘটনায়ও ক্ষো’ভ দেখা দিয়েছে সিলেটে। ঘটনার পরপরই কেন রায়হানকে আ’ট’কে রাখা হলো না, সে প্রশ্ন এখন সবার। তদন্ত কমিটির সঙ্গে কথা বলার পর রায়হানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সিলেট মহানগর এলাকা ছেড়ে সে যেন বাইরে বের না হয়। এরপরও ঘটনার পর বন্দরবাজার সিসিটিভি ফুটেজ মুছে এবং আলামত গায়েব করে পা’লায় এসআই আকবর। এখনও পর্যন্ত পুলিশ তার খোঁজ পায়নি।

উল্লেখ্য, রায়হান উদ্দিন নামের ওই যুবককে বন্দরবাজার থানা পুলিশ গত শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকালে আ’ট’ক করে। ওই দিন রাতে ফাঁ’ড়ি’তে তার ওপর নি’র্যা’ত’ন চালায় পুলিশ এবং তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য টাকা দাবি করে। ভোরে অপরিচিত একটি মোবাইল থেকে ছেলের ফোন পায় রায়হানের বাবা।

তাতে ওই ফাঁ’ড়ি’তে তাকে আ’ট’কে রেখে ছেড়ে দেওয়ার জন্য টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে জানায় রায়হান। বাবাকে টাকা নিয়ে এসে তাকে উদ্ধারের অনুরোধও করে রায়হান। ছেলেকে বাঁচাতে ভোরে তার বাবা টাকা নিয়ে ওই ফাঁ’ড়ি’তে গেলে তাকে জানানো হয় রায়হান এখন ঘুমাচ্ছে, সকাল ১০টার দিকে আসতে হবে। পরে সকাল ১০টা দিকে গেল তাকে বলা হয় সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে যেতে। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন তার ছেলে মা’রা গেছে। এরপর মৃ’ত ছেলের শরীরে নি’র্যা’ত’নের ভ’য়া’বহ চিহ্ন দেখতে পান তিনি। রায়হানের হাতের নখ’গু’লোও উ’প’ড়া’নো ছিল। পুলিশ এরপর দাবি করে রায়হানকে ছি’নতা’ইকা’রী স’ন্দে’হ করে জনতা গ’ণ’পি’টু’নি দেওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে।

তবে সিটি করপোরেশনের ফুটেজে এর কোনও প্রমাণ মেলেনি। রবিবার সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। বিকালে ৩টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে নি’হ’তের ‘লা’শ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। এশার নামাজের পর জানাজা শেষে তার লা’শ পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়। রায়হানকে পুলিশ হেফাজতে অ’মা’ন’বিক নি’র্যা’তনে’র ঘটনাটি রবিবার থেকেই গণমাধ্যমে আলোচিত হচ্ছে। এ ঘটনায় সিলেট কোতোয়ালি থানায় হ’ত্যা মা’ম’লা দা’য়ে’র করেছেন নি’হ’তের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি। মা’ম’লা দা’য়ে’রের পর এর তদন্তভার দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *